ভারতে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মূর্তি 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি'-র কথা তো আপনারা সবাই শুনেছেন। কিন্তু আজ আমি আপনাদের বলবো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর এবং সর্ববৃহৎ পাখির মূর্তি (Bird Sculpture) সম্বন্ধে, যা আমাদের দেশ ভারতবর্ষেই তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওটি শুরু করার আগে আপনি যদি আমাদের চ্যানেলে নতুন হন, তাহলে অবশ্যই চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করুন এবং নতুন ভিডিওর নোটিফিকেশন পেতে বেল আইকনে ক্লিক করুন। তো চলুন শুরু করা যাক আজকের ভিডিও।
"মূর্তির নেপথ্যের ইতিহাস (History Behind the Sculpture)"
বন্ধুরা, এই মূর্তিটির ব্যাপারে জানানোর আগে এর পেছনের ইতিহাসটা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। আপনারা হয়তো সবাই জানেন, প্রাচীন ভারতের প্রধান দুটি সংস্কৃত মহাকাব্যের মধ্যে একটি হলো 'মহাভারত' আর একটি হলো 'রামায়ণ'। এই রামায়ণের ইতিহাস অনুযায়ী, যখন লঙ্কার রাজা রাবণ সীতাকে হরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন 'জটায়ু' নামক পাখিটি সীতাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে এবং রাবণের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে তার একটি ডানা কেটে মাটিতে পড়ে যায়। কিন্তু সে ভগবান রামের আসা পর্যন্ত জীবিত থাকে এবং রাম আসলে তাকে বলে যে রাবণ সীতাকে দক্ষিণ দিকে নিয়ে গেছে।
"মূর্তিটির বিবরণ ও অবস্থান (Details and Location of the Sculpture)"
সেই ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে ভারতের দক্ষিণেই, কেরালার কোল্লাম জেলায় (Kollam, Kerala), প্রায় ১০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর জটায়ুর স্মৃতিতেই তৈরি হয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাখির মূর্তি—'জটায়ু আর্থস সেন্টার' (Jatayu Earth's Center)। রামায়ণের পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী এই মূর্তিতেও জটায়ুর একটি ডানা নেই।এই অদ্ভুত সুন্দর দেখতে মূর্তিটি ১৫০ ফুট চওড়া, ২০০ ফুট লম্বা এবং ৭০ ফুট উঁচু। আর এই মূর্তিটি প্রায় ৩০,০০০ স্কোয়ার ফুট এরিয়া জুড়ে অবস্থিত। এই সুন্দর বিশালাকার মূর্তিটি ডিজাইন করেছেন বিখ্যাত ফিল্মমেকার এবং স্কাল্পটর রাজীব আঞ্চল (Rajiv Anchal)।
"নারী সুরক্ষার প্রতীক ও নির্মাণ ইতিহাস (Symbol of Women's Safety & Construction History)"
এখন হয়তো আপনারা ভাবছেন যে, কেন এই মূর্তিটি জটায়ু নেচার পার্কের এত উঁচু পাহাড়ের ওপরই বানানো হয়েছে? আপনাদের বলে রাখি, এই মূর্তির ডিজাইনার রাজীব আঞ্চল এখানকার অনেক মানুষের কাছেই শুনেছেন যে সীতাকে বাঁচাতে গিয়ে নাকি জটায়ু এই পাহাড়ের ওপরই আহত অবস্থায় পড়ে গিয়ে নিজের প্রাণ হারায়। আর সেই কারণেই মূর্তিটি বানানোর জন্য তিনি এই জায়গাটিকেই বেছে নেন।তিনি বলেছেন যে পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী জটায়ুই সেই চরিত্র যে প্রথম নারী সুরক্ষার জন্য নিজের প্রাণ হারিয়েছিল। তাই এই পৌরাণিক ইতিহাসের অনুসরণে উইমেন সেফটি-কে (Women's Safety) ডেডিকেট করেই তৈরি হয়েছে 'World's Largest Bird Sculpture'।
"নির্মাণের খুঁটিনাটি (Construction Details)"
এই মূর্তিটি তৈরি করতে সময় লেগেছে পুরো ১০ বছর এবং এর ভেতরের কনস্ট্রাকশন সম্পূর্ণ হয়েছিল ২০২০ সালে। এই মূর্তিটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা এবং এর সমস্ত খরচই প্রাইভেট ফান্ড থেকে নেওয়া হয়েছে। পুরো স্কাল্পচারটি তৈরি হয়েছে রোলার কমপ্যাক্টেড কংক্রিট (Roller Compacted Concrete) দিয়ে, শুধুমাত্র পাখির নখগুলি ছাড়া, কারণ পাখির নখগুলি স্টেনলেস স্টিলের (Stainless Steel) তৈরি।এই বিশালাকার পাখির মূর্তিটির ভেতর প্রায় ১৫,০০০ স্কোয়ার ফুট স্পেস রয়েছে, যেখানে অডিও-ভিজ্যুয়াল ত্রেতা যুগ মিউজিয়াম এবং থিয়েটার রয়েছে, যেখানে আপনাদের জটায়ুর গল্প দেখানো হবে। এছাড়াও এই স্ট্যাচুর ভেতর থেকে জটায়ুর একটি চোখ দিয়ে এখানকার সূর্যোদয় এবং আরেকটি চোখ দিয়ে সূর্যাস্তের অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
"যাতায়াত ও অন্যান্য সুবিধা (Transportation and Facilities)"
জটায়ু নেচার পার্কে প্রবেশ করার জন্য কেবল কার বা রোপওয়ের (Cable Car/Ropeway) ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া জটায়ু স্ট্যাচুর বাইরের সৌন্দর্যের সাথে সাথে এখানকার পার্ক, অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটিজ (যেমন রক ক্লাইম্বিং, জিপলাইনিং) এবং রামের পায়ের ছাপ থাকা মন্দিরটি উপভোগ করতে পারবেন। এই মূর্তিটি তৈরি হওয়ার আগে এই পাহাড়ের চারপাশে গাছপালা বা জঙ্গলের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। পরবর্তীকালে পরিবেশের কথা ভেবে এই পাহাড়ের চারপাশে গাছ লাগিয়ে জটায়ু নেচার পার্ক তৈরি করা হয়।
"উপসংহার (Conclusion)"
তো বন্ধুরা, এই মূর্তিটি এবং এর ইতিহাস আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে আমাদের জানান। ভিডিওটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক করুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর এখনো যদি আপনারা আমাদের 'বং কিউরিওসিটি' চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করে না থাকেন, তাহলে অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করুন। এবং নতুন ভিডিওর নোটিফিকেশন পেতে বেল আইকনে ক্লিক করুন।আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।"

